এসি ও ডিসি কারেন্ট কাকে বলে? এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী? এসি ও ডিসি কারেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

এসি কারেন্ট কাকে বলে?

এসি (AC) কারেন্ট, যার পূর্ণরূপ Alternating Current (পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ), হলো এমন ধরণের তড়িৎ প্রবাহ যেখানে ইলেকট্রনের প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে।

এসি ও ডিসি কারেন্ট কাকে বলে? এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী? এসি ও ডিসি কারেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

এটি এমন এক ধরনের বিদ্যুৎ প্রবাহ, যা নির্দিষ্ট সময় অন্তর তার দিক ও মান পরিবর্তন করে। এই প্রবাহের বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে ধনাত্মক (পজিটিভ) থেকে ঋণাত্মক (নেগেটিভ) এবং আবার ঋণাত্মক থেকে ধনাত্মকে পরিবর্তিত হয়।

এই পরিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে এসি কারেন্টকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়, যেমন হিটার, ট্রান্সমিটার, ফ্যান, বাল্ব, এসি, ফ্রিজ ইত্যাদি। এসি কারেন্টের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি সবসময় একই থাকে না, এটি প্রতি মিনিটে আপ-ডাউন করে।

AC এর পূর্ণ রূপ কি?

বৈদ্যুতিক প্রকৌশলে, AC বিদ্যুৎকে বোঝাতে AC ব্যবহার করা হয়। এটি এমন ধরণের তড়িৎ প্রবাহ যেখানে ইলেকট্রনের প্রবাহ সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে। 

AC এর পূর্ণরূপ হল Alternating Current (অল্টারনেটিং কারেন্ট)।

অল্টারনেটিং শব্দটি ইংরেজি alternating শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ হল "বারবার পরিবর্তন করা"।

কারেন্ট শব্দটি ইংরেজি current থেকে এসেছে, যার অর্থ হল "বিদ্যুতের প্রবাহ"।

অতএব, Alternating Current এর পূর্ণরূপ হল "পরিবর্তনশীল বিদ্যুতের প্রবাহ"। এটি একধরনের বিদ্যুতের প্রবাহ যা নিয়মিত ভাবে দিক পরিবর্তন করে থাকে। অর্থাৎ এটি এক দিকে প্রবাহিত হয়, তারপর বিপরীত দিকে, তারপর আবার প্রথম দিকে এভাবে চক্রাকারে ঘুরপাক খায়।

আমাদের বাড়ি-ঘরে যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় তা Alternating Current বা AC ধরনের বিদ্যুৎ প্রবাহ। এছাড়াও AC প্রযুক্তি অনেক যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুনঃ ডায়নামো কি? ডায়নামো কিভাবে কাজ করে? ডায়নামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

এসি কারেন্ট এর ব্যবহার

এসি (AC) কারেন্ট, যার পূর্ণরূপ অল্টারনেটিং করেন্ট, বিদ্যুৎ প্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরণ যা সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে। এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এসি বা অল্টারনেটিং কারেন্টের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। নিচে এসি কারেন্টের কিছু প্রধান ব্যবহার উল্লেখ করা হলঃ

  • বিদ্যুৎ গ্রিড: বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাড়িঘর এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য এসি কারেন্ট প্রধানত ব্যবহৃত হয়। উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করার পর, এসি কারেন্ট দীর্ঘ দূরত্বে সহজেই ট্রান্সমিট করা যায়।

  • ট্রান্সমিশন ও বিতরণ: দূর-দূরান্তে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উচ্চ ভোল্টেজের এসি কারেন্ট ব্যবহার করা হয়। দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য AC কারেন্টকে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দূরবর্তী এলাকায় অবস্থিত সাবস্টেশন পর্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজে (যেমন: ১১০ kV, ২২০ kV, ৪০০ kV) ট্রান্সমিশন লাইনে  পরিবহন করা হয়। এরপর সাবস্টেশনে ট্রান্সফরমারের সাহায্যে ভোল্টেজ কমানো হয় এবং বিতরণ লাইনে (যেমন: ১১ kV, ৪০০ V) করে  গ্রাহক পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

  • বিদ্যুৎ সরবরাহ: আমাদের বাড়ি-ঘরে যে বিদ্যুৎ আসে তা এসি কারেন্ট। সারা দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় এসি কারেন্টের ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দূর-দূরান্তে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উচ্চ ভোল্টেজের এসি কারেন্ট ব্যবহার করা হয়। কারণ, উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতে কম প্রবাহ থাকে, যার ফলে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি কম হয়।

  • বিদ্যুৎ সঞ্চালন: দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য এসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়। কারণ এসি কারেন্টকে ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে সহজেই উচ্চতর বা নিম্নতর ভোল্টেজে রূপান্তর করা যায়, যা দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ সঞ্চালনকে আরও দক্ষ করে তোলে।

  • ঘরোয়া যন্ত্রপাতি: টিভি, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ওভেন ইত্যাদি ঘরোয়া যন্ত্রপাতিগুলি এসি কারেন্ট দিয়ে চালানো হয়।

  • শিল্প কারখানা: বিভিন্ন ধরণের মেশিন চালানোর জন্য এসি মোটর ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, মোটর, উৎপাদন লাইনগুলি এসি কারেন্ট দিয়ে চালানো হয়।

  • তথ্য-প্রযুক্তি: কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদি তথ্য-প্রযুক্তি সরঞ্জামগুলি এসি কারেন্ট ব্যবহার করে।

  • আলোকসজ্জা: রাস্তার বাতি, অফিস-আদালতের আলোকসজ্জা, ক্ষুদ্র আলোকসামগ্রীসহ বিভিন্ন আলোকসজ্জায় এসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়।

  • মেডিকেল ইকুইপমেন্ট: হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ব্যবহৃত অনেক মেডিকেল ইকুইপমেন্টই এসি কারেন্ট দিয়ে চালানো হয়।

  • রেলপথ: রেলপথগুলিতে চলাচলকারী ট্রেন এবং সিগন্যাল সিস্টেমগুলি এসি কারেন্ট ব্যবহার করে।

  • উত্তাপন: শিল্প কাজে বিভিন্ন উপাদান গলানো বা বাঁকানোর জন্য উচ্চ তাপ প্রয়োজন হয়। AC বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ইন্ডাকশন হিটিং এর মাধ্যমে উচ্চ তাপ সৃষ্টি করা যায়।

  • বাসাবাড়ি: এসি কারেন্ট বিভিন্ন ধরণের ঘরের বিদ্যুৎ সরঞ্জাম, যেমন আলো, ফ্যান, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ইত্যাদি চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়।

  • মোটর: বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রিক মোটর, যা বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি চালিত করে, এসি কারেন্ট দিয়ে চালিত হয়। ইন্ডাকশন মোটর, যা সবচেয়ে সাধারণ ধরণের AC মোটর, বাসস্থান এবং শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

  • গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং ওয়াশিং মেশিনের মতো বেশিরভাগ গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিকে শক্তি সরবরাহের জন্য এসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়।

  • শিল্প যন্ত্রপাতি: মোটর, পাম্প এবং কম্প্রেসরের মতো শিল্প যন্ত্রপাতিকে শক্তি সরবরাহের জন্য এসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়।
  • আলো: ইনক্যানডেসেন্ট বাল্ব এবং ফ্লুরোসেন্ট লাইটের মতো আলোকসজ্জা সরঞ্জামকে শক্তি সরবরাহের জন্য এসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়।

  • ইলেকট্রনিক্স: কম্পিউটার, টেলিভিশন এবং সেল ফোনের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে শক্তি সরবরাহের জন্য এসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়। কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এই যন্ত্রগুলিতে AC বিদ্যুতকে DC বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়। ফ্লুরোসেন্ট বাতিগুলিতে AC বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আলো তৈরি করা হয়।

  • বিদ্যুৎচালিত রেলওয়ে: বেশ কিছু দেশে দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর জন্য AC বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। রেলপথের ওপরের দিকে ওভারহেড তারের মাধ্যমে AC বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ট্রেনের ছাদে থাকা প্যান্টোগ্রাফের সাহায্যে এই বিদ্যুৎ সংগ্রহ করা হয়।

  • চৌম্বকীয় লেভিটেশন: ম্যাগলেভ ট্রেনের মতো উচ্চ-গতির ট্রেন চালানোর জন্য AC বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়।

  • বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান: শপিং মল, হাসপাতাল, স্কুল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এসি কারেন্ট ব্যবহার করা হয়।

  • বিদ্যুৎচালিত যানবাহন: ইলেকট্রিক গাড়ি, বাইক ইত্যাদিতে AC মোটর ব্যবহার করা হয়। কিছু দেশে বিদ্যুৎচালিত ট্রেন চালানোর জন্য AC বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়।

এসি কারেন্ট এর উদাহরণ

এসি কারেন্টের কিছু উল্লেখযোগ্য উদাহরণ:

  • বিদ্যুৎ গ্রিড: বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাড়িঘর এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য AC কারেন্ট ব্যবহৃত হয়। উচ্চ ভোল্টেজের AC কারেন্ট দীর্ঘ দূরত্বে সহজেই ট্রান্সমিট করা যায়। বাংলাদেশে, বিদ্যুৎ গ্রিডে 220 ভোল্ট এবং 50 Hz ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহৃত হয়।
  • বাসস্থানের বিদ্যুৎ সরঞ্জাম: এসি কারেন্ট বিভিন্ন ধরণের ঘরের বিদ্যুৎ সরঞ্জাম, যেমন আলো, ফ্যান, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ইত্যাদি চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এই সরঞ্জামগুলি AC কারেন্টকে সরাসরি ব্যবহার করে অথবা ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে ভোল্টেজ কমিয়ে ব্যবহার করে।
  • ইলেকট্রিক মোটর: বিভিন্ন ধরণের ইলেকট্রিক মোটর, যা বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি চালিত করে, এসি কারেন্ট দিয়ে চালিত হয়। ইন্ডাকশন মোটর, যা সবচেয়ে সাধারণ ধরণের AC মোটর, বাসস্থান এবং শিল্প উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

বিভিন্ন ধরণের AC অ্যাডাপ্টার এবং চার্জার AC কারেন্টকে DC কারেন্টে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয় যা ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালানোর জন্য প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ জেনেরেটর কি? জেনারেটরে কি কি সমস্যা হয়? জেনারেটর সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

এসি কারেন্ট কে আবিষ্কার করেন?

এসি বা অল্টারনেটিং কারেন্টের আবিষ্কারক ছিলেন সার্বিয়ান-আমেরিকান প্রযুক্তিবিদ নিকোলা টেসলা।

নিকোলা টেসলা 1856 সালে সার্বিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারক ছিলেন। টেসলা তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুতের উপর গবেষণা করেছিলেন।
এসি ও ডিসি কারেন্ট কাকে বলে? এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী? এসি ও ডিসি কারেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

1888 সালে, টেসলা প্রথম পলি-ফেজ এসি সিস্টেম আবিষ্কার করেন এবং এই আবিষ্কারের জন্য তিনি একাধিক পেটেন্ট লাভ করেন। তিনি দেখান যে, এসি বিদ্যুৎকে সহজেই উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তরিত করা যায় এবং প্রেরণের জন্য কম তার প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়।

এর আগে, থমাস এডিসনের আবিষ্কৃত ডিসি বা ডাইরেক্ট কারেন্ট ব্যবহৃত হতো। কিন্তু টেসলা দেখান যে, এসি বহু পরিমাণে উচ্চতর দক্ষতা সম্পন্ন। টেসলার এই আবিষ্কার বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিল।

বর্তমানে, সারা বিশ্বে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল মেশিন ও ইকুইপমেন্ট টেসলার আবিষ্কৃত এসি বা অল্টারনেটিং কারেন্টই ব্যবহৃত হচ্ছে। এজন্য টেসলাকে এসি কারেন্টের জনক বলা হয়।

এসি কারেন্টের সুবিধা ও অসুবিধা

এসি কারেন্টের সুবিধা:

  • দূর দূরান্তে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উপযোগী: AC বিদ্যুতকে ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে সহজেই উচ্চ ভোল্টেজে রূপান্তর করা যায়। উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ কম প্রবাহে দূর দূরান্তে সহজে প্রেরণ করা যায়। এসি কারেন্টকে ট্রান্সফরমার ব্যবহার করে সহজেই উচ্চ বা নিম্ন ভোল্টেজে রূপান্তর করা যায়। উচ্চ ভোল্টেজের এসি বিদ্যুৎ দীর্ঘ দূরত্বের ট্রান্সমিশন লাইনে কম বিদ্যুৎ পরিবহন করা সম্ভব। এর ফলে বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সহজ হয়।

  • ট্রান্সফরমার ব্যবহার সম্ভব: ট্রান্সফরমারগুলি শুধুমাত্র এসি বিদ্যুতের সাথেই কাজ করে। এগুলি দ্বারা ভোল্টেজ বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যায়। ফলে দীর্ঘ দূরত্বে শক্তি সঞ্চালন করা সম্ভব হয়। এসি কারেন্টের ভোল্টেজ সহজেই ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বাড়ানো বা কমানো যায়। 

  • আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি: এসি দ্বারাই বাড়ির আলো এবং বিভিন্ন ঘরোয়া যন্ত্রপাতি চালানো যায়।

  • বেশিরভাগ ঘরোয়া যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়: এসি কারেন্ট বাতাসের পাখা, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার ইত্যাদি বেশিরভাগ ঘরোয়া যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়।

  • বিভিন্ন ধরনের মোটর ব্যবহার করা যায়: এসি কারেন্ট ইন্ডাকশন মোটর এবং সিঙ্ক্রোনাস মোটর এর মতো বিভিন্ন ধরনের মোটরে ব্যবহার করা যায়। এসি মোটর খুব সহজেই চালানো যায়। এটি শিল্প ও যন্ত্রপাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • তুলনামূলক কম খরচ: এসি জেনারেটর এবং ট্রান্সমিশন সিস্টেম তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করা ডিসি জেনারেটর এবং ট্রান্সমিশন সিস্টেমের তুলনায় কম খরচসাপেক্ষ।

  • জেনারেটর ও সঞ্চালন সহজ: বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে এসি জেনারেটর ব্যবহার করা হয়, যা শক্তি উৎপাদন ও সঞ্চালনকে সহজ করে তোলে।

এসি কারেন্টের অসুবিধা:

  • স্পন্দন: এসি কারেন্টের দিক পরিবর্তনের ফলে স্পন্দন তৈরি হয়। কিছু যন্ত্রপাতির জন্য এই স্পন্দন ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এসি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্পন্দন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হয়।

  • বিপজ্জনক: উচ্চ ভোল্টেজের এসি বিদ্যুৎ স্পর্শ করলে তা মারাত্মক বিদ্যুৎ-ঝাঁকা সৃষ্টি করতে পারে।

  • উচ্চ স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ: এসি জেনারেটর, ট্রান্সমিশন লাইন ইত্যাদির স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

  • ভোল্টেজ ড্রপ: দীর্ঘ লাইনে ভোল্টেজ ড্রপের সমস্যা থাকে যা কারেন্ট প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে।

  • মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এসি বিদ্যুতের প্রবাহের দিক পরিবর্তনের কারণে এটি ডিসি বিদ্যুতের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। এসি কারেন্টের আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি, এটি মানবদেহে সহজেই প্রবাহিত হতে পারে। মানবদেহে এসি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে পেশী সংকোচনের ঝুঁকি বেশি থাকে।

  • DC তে রূপান্তরের প্রয়োজন: অনেক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি DC বিদ্যুৎ দিয়ে কাজ করে, তাই AC কারেন্ট DC তে রূপান্তর করতে হয়।

  • ইলেকট্রোরাইফাইনিং এবং  ইলেক্ট্রোপ্লেটিং প্রক্রিয়াগুলোতে ব্যবহার করা যায় না: এসি বিদ্যুৎ ইলেকট্রোরাইফাইনিং এবং ইলেক্ট্রোপ্লেটিং প্রক্রিয়াগুলোতে ব্যবহার করা যায় না।

  • বিদ্যুৎ লাইনে ক্ষমতা হ্রাস: এসি বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় তড়িৎ লাইনে "স্কিন এফেক্ট" নামক একটি ঘটনা ঘটে। এর ফলে কিছু পরিমাণ বিদ্যুৎ তাপে রূপান্তরিত হয়ে যায়, যা ক্ষমতা হ্রাসের কারণ হয়। উচ্চ দূরত্বে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এটি একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সিতে স্কিন ইফেক্ট দেখা দেয়, যা কারেন্ট প্রবাহকে বিঘ্নিত করে।

  • তাপ উৎপাদন: এসি কারেন্ট প্রবাহিত হলে তাপ উৎপন্ন হয়। তাই এসি বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় তাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হয়।

  • কারেন্ট অপচয়: ভোল্টেজ ও কারেন্ট নিয়মিত পরিবর্তিত হওয়ায় কিছুটা বিদ্যুৎ নষ্ট হয়ে যায়। 
  • কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইসের জন্য অসুবিধাজনক: কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেমন ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ইত্যাদিতে, এসি কারেন্টকে ডিসি কারেন্টে রূপান্তর করে ব্যবহার করা হয়। এই রূপান্তর প্রক্রিয়া কিছু বিদ্যুৎ নষ্ট করে এবং ডিভাইসের কর্মক্ষমতা হ্রাস করতে পারে।

  • পরিবেশগত প্রভাব: উচ্চ ভোল্টেজের এসি বিদ্যুৎ লাইন ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড (EMF) তৈরি করে যা মানুষের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এসি বিদ্যুতের বহুবিধ সুবিধা থাকলেও একইসাথে এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে। তবে এর সুবিধাগুলিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় বর্তমান বিশ্বে এসি প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ সেন্সর কি? সেন্সর কত প্রকার ও কি কি? সেন্সর এর কাজ কি? সেন্সর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

ডিসি কারেন্ট কাকে বলে?

ডিসি কারেন্ট বা ডাইরেক্ট কারেন্ট হলো এমন এক ধরনের বিদ্যুৎ প্রবাহ যা সব সময় একই দিকে প্রবাহিত হয় এবং যার মান নির্দিষ্ট থাকে। এই ধরনের কারেন্টের দুটি দিক থাকে, একটি হচ্ছে পজিটিভ এবং অন্যটি হচ্ছে নেগেটিভ। সাধারণত, ব্যাটারি থেকে পাওয়া কারেন্ট ডিসি কারেন্ট হিসেবে পরিচিত। ডিসি কারেন্টের মান সব সময় একই রকম থাকে এবং এর মানের পরিবর্তন হয় না। এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহার করা হয়, যেমন মোবাইল ফোনের চার্জার, ল্যাপটপ, এবং অন্যান্য পোর্টেবল ডিভাইস। ডিসি কারেন্ট সাধারণত ৩ ভোল্ট থেকে ২৪ ভোল্ট পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ রাডার কি? রাডার কিভাবে কাজ করে? রাডার সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

DC এর পূর্ণ রূপ কি?

DC এর পূর্ণরূপ হলো Direct Current যার বাংলা অর্থ অপরিবর্তনশীল কারেন্ট। এটি একটি ধারাবাহিক তড়িৎ কারেন্ট, যেখানে কারেন্টের দিক এবং মান পরিবর্তন হয় না। 

ইংরেজিতে এটি "Direct Current" নামে পরিচিত, যার সংক্ষিপ্ত রূপ "DC"। ডিসি কারেন্ট হলো বৈদ্যুতিক চার্জের একমুখী প্রবাহ।

অর্থাৎ, ডিসি কারেন্টে ইলেকট্রন সবসময় একই দিকে প্রবাহিত হয়, দিক পরিবর্তন করে না। ব্যাটারি, সোলার সেল, এবং ডিসি মোটর ডিসি কারেন্টের উৎস।

ডিসি কারেন্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়, যেমন - মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ অল্টারনেটর কি? কত প্রকার ও কি কি? অল্টারনেটর কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিত জানুন

ডিসি কারেন্ট এর ব্যবহার

ডিসি কারেন্ট, যার পূর্ণ রূপ "ডাইরেক্ট কারেন্ট", বিদ্যুতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপ যা ব্যাটারি, সোলার সেল, এবং ডিসি মোটর সহ বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া যায়। এটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, এবং বিভিন্ন শিল্প প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

ডিসি (Direct Current) বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধরণ যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যবহার নীচে তালিকাভুক্ত করা হল:

  • ব্যাটারি ও সেল: ব্যাটারি এবং সেলে ডিসি কারেন্ট উৎপন্ন হয়। এটি বিশেষভাবে প্রায় স্থায়ী তড়িৎ আপাততা সরবরাহ করতে ব্যবহৃত হয়।

  • ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস: অনেক ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস যেমন - ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, রেডিও ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করে। এগুলোতে ব্যাটারি থাকে যা ডিসি কারেন্ট সরবরাহ করে।

  • কম তাপ উৎপাদন: ডিসি বিদ্যুৎ এসি বিদ্যুতের তুলনায় কম তাপ উৎপন্ন করে।

  • গ্যালভানোমিটার এবং অন্যান্য ডিসি উপাদান: গ্যালভানোমিটার, ডিসি মোটর, ডিসি জেনারেটর এবং অন্যান্য ডিসি উপাদান ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করে।

  • খেলনা: অনেক রকমের খেলনা ডিসি বিদ্যুতে চলে।

  • রিমোট সেন্সর: রিমোট এলাকায় স্থাপিত বিভিন্ন সেন্সর যেমন - আবহাওয়া স্টেশন, সিসিটিভি ক্যামেরা ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করে থাকে।

  • সৌর এনার্জি সিস্টেম: সৌর প্যানেল থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ ডিসি ধরনের হয়। এই ডিসি কারেন্ট ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করা হয় বা ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি কারেন্টে রূপান্তরিত করা হয়।

  • ইলেকট্রিক গাড়ি: ইলেকট্রিক গাড়িতে ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। ইলেকট্রিক গাড়িগুলোতে ব্যাটারি থাকে যা ডিসি কারেন্ট সরবরাহ করে।

  • রেডিও সিগন্যাল ট্রান্সমিশন: রেডিও ও টেলিভিশনের সিগন্যাল ট্রান্সমিশন ডিসি কারেন্টের উপর ভিত্তি করে।

  • রেলপথ সিগন্যালিং: রেললাইনের সিগন্যাল সিস্টেম ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করে থাকে। 

  • টেলিগ্রাফ লাইন: টেলিগ্রাফ লাইনগুলোতে ডিসি কারেন্ট প্রবাহিত হয়।

  • প্রতিরক্ষামূলক নৌবাহিনীর সামরিক যন্ত্রপাতি: বিভিন্ন রাডার, সোনার এবং গাইডেড মিসাইলগুলো ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করে।

  • সহজ নিয়ন্ত্রণ: ডিসি বিদ্যুৎ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

  • মোবাইল ফোন: মোবাইল ফোন চার্জ করতে এবং চালানোর জন্য ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

  • LED লাইট: LED লাইটগুলিতে ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। ডিসি কারেন্ট দিয়ে চালিত LED লাইট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী।

  • চিকিৎসা যন্ত্রপাতি: কিছু চিকিৎসা যন্ত্রপাতিতে ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

  • অডিও সরঞ্জাম: অ্যামপ্লিফায়ার, স্পিকার এবং অন্যান্য অডিও সরঞ্জামে ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

  • ধাতু গলানো: কিছু ধাতু গলানোর জন্য ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

  • ইলেক্ট্রোলাইসিস: ইলেক্ট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। তরল পদার্থকে বিভাজন করার জন্য ডিসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে ইলেক্ট্রোলাইসিস ব্যবহার করা হয়।

  • ইলেক্ট্রোপ্লেটিং: ধাতুর উপর অন্য ধাতুর আবরণ দেওয়ার জন্য ডিসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, গয়না তৈরিতে সোনার আবরণ দেওয়ার জন্য ইলেক্ট্রোপ্লেটিং ব্যবহার করা হয়।

  • বেতার যোগাযোগ: কিছু বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ডিসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়।

  • বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা: ডিসি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকায় যেখানে এসি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন।
  • টর্চলাইট: ব্যাটারি চালিত টর্চলাইটগুলিতে ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।
  • ইলেকট্রনিক সিগারেট: ভাপ তৈরি করার জন্য ইলেকট্রিক সিগারেটগুলো বাষ্পীভবনের জন্য ডিসি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ব্যাটারির উপর নির্ভর করে যা ডিসির উপর নির্ভরশীল।

  • শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র: অনেক শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রে ডিসি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী খুব ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়।

  • ইলেকট্রনিক ঘড়ি: কোয়ার্টজ ঘড়িগুলো ছোট ব্যাটারি থেকে পাওয়া ডিসি বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত হয়।

  • ডিফিব্রিলেটর: ডিফিব্রিলেটর সাধারণ হৃদস্পন্দ ফিরিয়ে আনতে উচ্চ-শক্তির ডিসি শক প্রদান করে।

  • ডেটা ট্রান্সমিশন: কিছু ডেটা ট্রান্সমিশন ক্ষেত্রে দীর্ঘ দূরত্ব জুড়ে সিগনাল ট্রান্সমিশনের জন্য ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

ডিসি কারেন্ট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প প্রক্রিয়া, সেন্সর এবং গাড়ি ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ কন্ডাক্টর, সেমিকন্ডাক্টর ও ইনসুলেটর সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

ডিসি কারেন্ট এর উদাহরণ

ডিসি কারেন্টের বিভিন্ন উদাহরণ:

দৈনন্দিন জীবনে:

  • ব্যাটারি চালিত যন্ত্রপাতি: মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, রিমোট কন্ট্রোল, খেলনা গাড়ি, ইত্যাদি।

  • LED লাইট: টর্চলাইট, সোলার ল্যাম্প, স্ট্রিট লাইট, ইত্যাদি।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা:

  • আপৎকালীন বিদ্যুৎ সরবরাহ: UPS (Uninterruptible Power Supply) ব্যবস্থায় ব্যাটারি থেকে ডিসি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

  • সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা: সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎকে ব্যাটারিতে সঞ্চয় করার জন্য এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের জন্য ডিসি কারেন্টে রূপান্তর করা হয়।

ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি:

  • কম্পিউটার: ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপ কম্পিউটারে মাদারবোর্ডে ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

  • প্রিন্টার: ইঙ্কজেট এবং লেজার প্রিন্টারে ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসা যন্ত্রপাতি:

  • পেসমেকার: হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণের জন্য।
  • ডিফিব্রিলেটর: হৃৎস্পন্দন নিয়মিত করার জন্য।

শিল্প প্রক্রিয়া:

  • ইলেক্ট্রোলাইসিস: অ্যালুমিনিয়াম, তামা, এবং জিঙ্কের মতো ধাতু উৎপাদনের জন্য।

  • ইলেক্ট্রোপ্লেটিং: ধাতুর উপর অন্য ধাতুর আবরণ দেওয়ার জন্য, যেমন - গয়না, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, ইত্যাদিতে।
  • বেতার যোগাযোগ: কিছু বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

  • বিদ্যুৎ গাড়ি: ডিসি মোটর দিয়ে চালিত।
  • রেলওয়ে: কিছু রেলওয়ে ব্যবস্থায় ডিসি ট্র্যাকশন ব্যবহার করা হয়।

অন্যান্য:

  • বিদ্যুৎ গ্রিড: দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ প্রেরণের জন্য AC কারেন্টকে HVDC (High-Voltage Direct Current)-তে রূপান্তর করা হয়।

  • ডিসি মোটর: বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য, যেমন - লিফট, ক্রেন, ইত্যাদি।

  • সামুদ্রিক যানবাহন: কিছু সামুদ্রিক যানবাহনে ডিসি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়।

  • ব্যাটারি: ব্যাটারি হল ডিসি কারেন্টের একটি প্রাথমিক উৎস। সাধারণ ড্রাই-সেল ব্যাটারি থেকে শুরু করে ল্যাপটপ এবং মোবাইলের রিচার্জেবল ব্যাটারিগুলি পর্যন্ত সবগুলোই ডিসি কারেন্ট সরবরাহ করে।

  • পাওয়ার ব্যাংক: পাওয়ার ব্যাংক ডিসি বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে এবং মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করতে ব্যবহৃত হয়।

  • কম্পিউটার: কম্পিউটারে, ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করা হয় মাদারবোর্ড, প্রসেসর, মেমরি, হার্ড ড্রাইভ, এবং অন্যান্য কম্পোনেন্টগুলির সাথে সংযোগ স্থাপিত করতে। এটি একটি নির্দিষ্ট ভোল্টেজে বিভিন্ন কম্পোনেন্টগুলির মধ্যে ডেটা প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করে।

  • মোবাইল ফোন: মোবাইল ফোনে, ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করা হয় ফোনের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট, যেমন ডিসপ্লে, প্রসেসর, ক্যামেরা, এবং ব্যাটারির সাথে সংযোগ স্থাপিত করতে। এটি ফোনের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলি, যেমন কল, টেক্সট, ইমেজ, এবং ভিডিও প্লেব্যাকে সমস্ত কাজ করতে সহায়তা করে।

  • ইলেকট্রিক লাইটিং: ইলেকট্রিক লাইটিং সিস্টেমে, ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করা হয় লাইটের উজ্জ্বলতা, রঙ, এবং তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে। এটি বিভিন্ন ধরনের লাইট, যেমন ইনক্যান্ডেসেন্ট লাইট, এলইডি লাইট, এবং হাই-ইনটেনসিটি লাইটে ব্যবহৃত হয়।

  • অটোমোবাইল: অটোমোবাইল বা স্বয়ংক্রিয় কার রূপায়নে, ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন সেন্সর, এক্টুয়েটর, এবং অন্যান্য কম্পোনেন্টগুলির সাথে ডেটা প্রেরণ এবং সংগ্রহণে। এটি গাড়ির গতি, দিকপথ, ব্রেকিং, এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলিকে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালন করতে সহায়তা করে।

  • পাওয়ার সরবরাহ: পাওয়ার সরবরাহে, ডিসি কারেন্ট ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ধরনের পাওয়ার সরবরাহের সিস্টেম, যেমন এসি, ডিসি, এবং ব্যাটারির সাথে সংযোগ স্থাপিত করতে। এটি নির্দিষ্ট এবং স্থির পাওয়ার সরবরাহ বিশ্বাসযোগ্য করতে সহায়তা করে।

উল্লেখ্য যে, এটি ডিসি কারেন্টের ব্যবহারের কয়েকটি উদাহরণ। আরও অনেক ক্ষেত্রে ডিসি কারেন্ট ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুনঃ রেকটিফায়ার কি? রেকটিফায়ার কত প্রকার ও কি কি? বিস্তারিত আলোচনা

এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী?

এসি (Alternating Current) এবং ডিসি (Direct Current) কারেন্টের মধ্যে পার্থক্যগুলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং এই দুই ধরনের কারেন্টের বিভিন্ন প্রয়োগ ক্ষেত্র ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

এসি ও ডিসি কারেন্ট কাকে বলে? এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী? এসি ও ডিসি কারেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

নিচে এসি এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি উল্লেখ করা হলো:

1. দিক পরিবর্তন:

  • এসি কারেন্ট: এসি কারেন্ট সময়ের সাথে সাথে দিক পরিবর্তন করে। এটি একটি সাইনোসয়েডাল তরঙ্গের মতো সময়ের সাথে নিয়মিত ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগামী হয়।

  • ডিসি কারেন্ট: ডিসি কারেন্ট একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হয় এবং সময়ের সাথে দিক পরিবর্তন করে না।

2. ফ্রিকোয়েন্সি:

  • এসি কারেন্ট: এসি কারেন্টের একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি থাকে, যেমন উত্তর আমেরিকায় ৬০ হার্জ (Hz) এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় ৫০ হার্জ (Hz)।

  • ডিসি কারেন্ট: ডিসি কারেন্টের কোনও ফ্রিকোয়েন্সি থাকে না, কারণ এটি সময়ের সাথে স্থির থাকে।

3. ভোল্টেজের পরিবর্তন:

  • এসি কারেন্ট: এসি কারেন্টের ভোল্টেজ সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়, যা এটিকে ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে সহজেই বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে সাহায্য করে।

  • ডিসি কারেন্ট: ডিসি কারেন্টের ভোল্টেজ সাধারণত সময়ের সাথে অপরিবর্তিত থাকে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে পালসেটিং ডিসি কারেন্ট থাকতে পারে।

4. ব্যবহার:

  • এসি কারেন্ট: গৃহস্থালী এবং বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, বড় বৈদ্যুতিক মোটর এবং যন্ত্রপাতি, বিদ্যুৎ গ্রিডের দীর্ঘ দূরত্ব পরিবহন ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

  • ডিসি কারেন্ট: ব্যাটারি চালিত ডিভাইস (যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ), ইলেকট্রনিক সার্কিট, সৌর প্যানেল এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি সিস্টেম ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।

এসি এবং ডিসি কারেন্টের পার্থক্য টেবিল আকারে দেওয়া হলঃ

বৈশিষ্ট্য এসি কারেন্ট (AC) ডিসি কারেন্ট (DC)
দিক পরিবর্তন সময়ের সাথে নিয়মিত দিক পরিবর্তন করে। নির্দিষ্ট এক দিকে প্রবাহিত হয়।
ফ্রিকোয়েন্সি ৫০ Hz বা ৬০ Hz সাধারণত। ফ্রিকোয়েন্সি নেই।
ভোল্টেজ পরিবর্তন সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। সাধারণত স্থির, পালসেটিং ডিসি থাকতে পারে।
পরিবহন দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহন সহজ। দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহন জটিল।
ব্যবহৃত উৎস পাওয়ার গ্রিড, ট্রান্সফরমার ইত্যাদি। ব্যাটারি, সৌর প্যানেল ইত্যাদি।
প্রয়োগ ঘরবাড়ি এবং শিল্পের বিদ্যুৎ সরবরাহ। ইলেকট্রনিক ডিভাইস, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি।

এসি এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্যগুলি তাদের প্রয়োগ ক্ষেত্র ও বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। এসি কারেন্ট বিদ্যুৎ গ্রিডে এবং বড় মোটর ও যন্ত্রপাতিতে বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি সহজেই ভোল্টেজ পরিবর্তন করতে পারে এবং দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহনযোগ্য। অন্যদিকে, ডিসি কারেন্ট ব্যাটারি চালিত ডিভাইস এবং ইলেকট্রনিক সার্কিটে বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট দিক এবং স্থির ভোল্টেজ প্রদান করে, যা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির জন্য প্রয়োজনীয়।

আরও পড়ুনঃ ইলেকট্রিক সার্কিটের মৌলিক ধারণা

এসি ও ডিসি ভোল্টেজ কি?

  • এসি ভোল্টেজ (AC Voltage): এসি ভোল্টেজ হলো এমন এক ধরনের ভোল্টেজ যা সময়ের সাথে সাথে তার দিক ও মান পরিবর্তন করে। এটি একটি সাইন তরঙ্গের মতো আকারে ধরা যায়, যা ধ্রুবকভাবে ঊর্ধ্বমুখী এবং নিম্নমুখী হয় অর্থাৎ এটি সাইন তরঙ্গের মতো উপরে ও নিচে প্রবাহিত হয়। এসি ভোল্টেজ সাধারণত বিদ্যুৎ গ্রিডে ব্যবহৃত হয় এবং ঘরে ও শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
  • ডিসি ভোল্টেজ (DC Voltage): ডিসি ভোল্টেজ হলো এমন এক ধরনের ভোল্টেজ যা সময়ের সাথে তার দিক বা মান পরিবর্তন করে না। এটি একটি সোজা রেখা হিসেবে প্রবাহিত হয়। ডিসি ভোল্টেজ সাধারণত ব্যাটারি, সৌর প্যানেল, এবং ইলেকট্রনিক সার্কিটে ও ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়।

বাসা বাড়িতে কোন কারেন্ট ব্যবহার হয়?

বাড়িগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ এসি কারেন্টের মাধ্যমে করা হয়। দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এসি কারেন্ট আকারে থাকে। এই এসি কারেন্টই বাসা বাড়িগুলিতে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন:

1. লাইট ও ব্যাটিং ফ্যান: বাড়ির আলো এবং ছাদের ফ্যানগুলি এসি কারেন্ট দিয়েই চালানো হয়।

2. ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার, টিভি: বাসার এই বড় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসগুলি এসি কারেন্ট দিয়েই চলে।

3. কম্পিউটার, মোবাইল চার্জার: এগুলির চার্জার এসি থেকে ডিসিতে রূপান্তর করে আউটপুট দেয়।

4. মোটর ড্রাইভেন ডিভাইস: ওয়াশিং মেশিন, ফ্যান, পাখা ইত্যাদি এসি মোটর দিয়ে চালিত হয়।

যদিও বাসা বাড়িতে মূলত এসি কারেন্ট ব্যবহৃত হলেও, বিভিন্ন ডিভাইসে ডিসি (Direct Current) কারেন্ট ব্যবহৃত হতে পারে। ব্যাটারি অপারেটেড ডিভাইস যেমন রিমোট কন্ট্রোল, ফ্ল্যাশলাইট ইত্যাদি ডারেক্ট ডিসি কারেন্ট থেকে পাওয়ার গ্রহণ করে। তাই বলা যাই বাসা বাড়িতে সাধারণত দুই ধরনের কারেন্ট ব্যবহার হয়: এসি (AC) এবং ডিসি (DC)।

1. এসি (Alternating Current): বাসা বাড়িতে ব্যবহৃত প্রধান কারেন্ট হচ্ছে এসি। বিদ্যুৎ কোম্পানির থেকে পাওয়া বিদ্যুৎটি এসি ধরণের হয়, যা বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান কারণ হলো এসি বিদ্যুৎকে সহজে লম্বা দূরত্বে পরিবহন করা যায় এবং বিভিন্ন ভোল্টেজে রূপান্তর করা যায়।

2. ডিসি (Direct Current): বাসা বাড়ির কিছু নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ডিসি কারেন্টে কাজ করে, যেমন ব্যাটারি চালিত ডিভাইস। সোলার প্যানেল থেকেও ডিসি কারেন্ট পাওয়া যায়, যা ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি কারেন্টে রূপান্তরিত করা হয় বাসার অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য।

এসি কারেন্টই প্রধানত ব্যবহৃত হয় বাসা বাড়িতে, ডিসি কারেন্ট ব্যবহার হয় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে।

আরও পড়ুনঃ খুব সহজেই পিসিবি তৈরির কৌশল শিখে নিন

কোন কারেন্ট বা বিদ্যুৎ বেশি বিপজ্জনক এসি নাকি ডিসি?

এসি (Alternating Current) এবং ডিসি (Direct Current) উভয়ই বিপজ্জনক হতে পারে, তবে বিভিন্ন কারণের জন্য এসি বিদ্যুৎ সাধারণত বেশি বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এসি ও ডিসি কারেন্ট কাকে বলে? এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী? এসি ও ডিসি কারেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

এর কারণগুলো হল:

  • ফ্রিকোয়েন্সি: এসি বিদ্যুৎ সাধারণত ৫০ বা ৬০ হার্জ ফ্রিকোয়েন্সিতে প্রবাহিত হয়। এই ফ্রিকোয়েন্সি মানুষের হৃদযন্ত্র এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপর বেশি প্রভাব ফেলে, যার ফলে মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, এমনকি জীবননাশও হতে পারে।

  • চলমান প্রবাহের পরিবর্তন: এসি বিদ্যুৎ তার প্রকৃতির কারণে প্রতি সেকেন্ডে বারবার দিক পরিবর্তন করে। এই দিক পরিবর্তন ত্বকে পেশী সংকোচনের প্রবণতা বাড়ায়, যা আহত ব্যক্তিকে কারেন্টের উৎস থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার পরিবর্তে আটকে রাখতে পারে।

  • প্রবাহের ভোল্টেজ: উচ্চ ভোল্টেজের এসি বিদ্যুৎ ডিসি বিদ্যুতের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হতে পারে কারণ এটি শরীরের অভ্যন্তরে উচ্চ প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে।

  • হার্ট ফাইব্রিলেশন: এসি কারেন্ট দেহের মাধ্যে প্রবাহিত হলে এটি হার্টের স্বাভাবিক রিদম বা গতিকে বিঘ্নিত করে এবং হার্ট ফাইব্রিলেশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।অন্যদিকে, ডিসি কারেন্টের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক কম।

  • মাঙ্গেলিক ইফেক্ট: এসি কারেন্টের পরিবর্তনশীল প্রকৃতির কারণে এটি দেহের চারপাশে একটি পরিবর্তনশীল চুম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি করে। যা দেহের কোষগুলিকে বিশৃঙ্খলিত করে।

  • রিলিজ করা কঠিন: দেহে প্রবেশের পর এসি কারেন্ট থেকে মুক্ত হওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ডিসি কারেন্ট দেহ থেকে অনেক সহজেই মুক্ত হতে পারে।

  • শক স্থায়ী: এসি কারেন্টের শক অনেক বেশি শক্তিশালী ও স্থায়ী হতে পারে, যা জীবননাশের সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, ডিসি কারেন্টের শক ততটা প্রবল নয়।
  • নার্ভ সমস্যা: এসি কারেন্ট দেহের মাধ্যমে প্রবাহিত হলে নার্ভগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং নার্ভের কার্যকলাপকে বিঘ্নিত করতে পারে।

তবে, উচ্চ ভোল্টেজ এবং কারেন্ট ইন্টেনসিটির ক্ষেত্রে ডিসি কারেন্টও ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক হতে পারে। তাই উভয়কেই সাবধানতার সাথে সামলাতে হবে। কিন্তু মোটামুটিভাবে, এসি কারেন্টকে ডিসি কারেন্টের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক মনে করা হয়।

আরও পড়ুনঃ ট্রান্সফরমার কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? বিস্তারিত আলোচনা

তবে, ডিসি বিদ্যুতেরও বিপজ্জনক দিক রয়েছে:

  • ধ্রুবক প্রবাহ: ডিসি বিদ্যুৎ ধারাবাহিকভাবে একই দিকে প্রবাহিত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ক্ষতি করতে পারে এবং পেশীগুলোকে স্থায়ীভাবে সংকুচিত করতে পারে।

  • উচ্চ ভোল্টেজ ডিসি: উচ্চ ভোল্টেজ ডিসি বিদ্যুৎও বিপজ্জনক হতে পারে, বিশেষত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি বা পাওয়ার সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে।

উভয় প্রকার কারেন্টই সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া বিপজ্জনক, তবে ঘরের সাধারণ ব্যবহারের প্রেক্ষিতে এসি বিদ্যুৎ সাধারণত বেশি বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত হয়।

কিভাবে ভোল্টেজ পরিবর্তন করা যায়?

ভোল্টেজ পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা এসি (Alternating Current) এবং ডিসি (Direct Current) উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

এসি ও ডিসি কারেন্ট কাকে বলে? এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী? এসি ও ডিসি কারেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

এখানে কয়েকটি সাধারণ পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:

এসি ভোল্টেজ পরিবর্তনের পদ্ধতিঃ

  • ট্রান্সফরমার (Transformer): ট্রান্সফরমার হলো এক ধরনের বৈদ্যুতিক ডিভাইস যা এসি ভোল্টেজকে বৃদ্ধি বা হ্রাস করতে ব্যবহৃত হয়। ট্রান্সফরমারের প্রাথমিক এবং সেকেন্ডারি কুণ্ডলীর সংখ্যা পরিবর্তন করে ভোল্টেজ পরিবর্তন করা হয়।

পদ্ধতি:

1. স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার (Step-up Transformer): প্রাথমিক কুণ্ডলীর তুলনায় সেকেন্ডারি কুণ্ডলীতে বেশি টার্ন থাকার কারণে ভোল্টেজ বৃদ্ধি করে।

2. স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার (Step-down Transformer): প্রাথমিক কুণ্ডলীর তুলনায় সেকেন্ডারি কুণ্ডলীতে কম টার্ন থাকার কারণে ভোল্টেজ হ্রাস করে।

ডিসি ভোল্টেজ পরিবর্তনের পদ্ধতিঃ

  • ডিসি-ডিসি কনভার্টার (DC-DC Converter): ডিসি-ডিসি কনভার্টার হল এক ধরনের বৈদ্যুতিক ডিভাইস যা ডিসি ভোল্টেজকে একটি স্তর থেকে অন্য স্তরে রূপান্তরিত করে। এগুলো সাধারণত সুইচিং কনভার্টার হিসেবে পরিচিত। এই ডিভাইস ইনপুট DC ভোল্টেজকে আলাদা DC ভোল্টেজে রূপান্তর করে। উচ্চ বা নিম্ন ভোল্টেজের জন্য আলাদা কনভার্টার থাকে।

পদ্ধতি:

1. বাক কনভার্টার (Buck Converter): ইনপুট ভোল্টেজকে হ্রাস করে আউটপুট ভোল্টেজ প্রদান করে।

2. বুস্ট কনভার্টার (Boost Converter): ইনপুট ভোল্টেজকে বৃদ্ধি করে আউটপুট ভোল্টেজ প্রদান করে।

3. বাক-বুস্ট কনভার্টার (Buck-Boost Converter): ইনপুট ভোল্টেজকে হ্রাস বা বৃদ্ধি উভয়ই করতে সক্ষম।

  • রেসিস্টর: রেসিস্টর বিদ্যুৎ প্রবাহের পথে বাধা সৃষ্টি করে। একটি রেসিস্টরের মাধ্যমে DC ভোল্টেজ প্রবাহিত করে, আপনি ভোল্টেজকে হ্রাস করতে পারেন।

  • ভোল্টেজ রেগুলেটর ব্যবহার করা: এটি একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা DC ভোল্টেজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে, এমনকি যদি ইনপুট ভোল্টেজে পরিবর্তন হয়। ভোল্টেজ রেগুলেটর হল একটি আর্কিটেকচার যা ইনপুট ভোল্টেজকে নিয়ন্ত্রিত করে স্থির আউটপুট ভোল্টেজ দেয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক সার্কিটগুলিতে ব্যবহৃত হয়।

  • ইনভার্টার ব্যবহার করা: ইনভার্টার DC ভোল্টেজকে AC তে রূপান্তরিত করতে পারে। AC ভোল্টেজ ট্রান্সফরমার দিয়ে পরিবর্তন করা যায়।

উভয় এসি ও ডিসি ভোল্টেজ পরিবর্তনের পদ্ধতিঃ

  • পটেনশিওমিটার (Potentiometer) ব্যবহার করা: পটেনশিওমিটার হল একটি ভ্যারিয়েবল রেজিস্টর, যা ভোল্টেজকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রেজিস্টেন্স হিসেবে কাজ করে। পটেনশিওমিটার ভোল্টেজ ড্রপ করে।
  • ভোল্টেজ ডিভাইডার (Voltage Divider): রেজিস্টর ব্যবহার করে ভোল্টেজকে ভাগ করা হয়। এটি এসি ও ডিসি উভয় সার্কিটে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ডিভাইস/পদ্ধতি ব্যবহার করে ভোল্টেজ পরিবর্তন করা যায়।

ইলেকট্রিক সার্কিট পরিচালনার জন্য কোন ভোল্টেজ ভালো?

ইলেকট্রিক সার্কিট পরিচালনার জন্য কোন ভোল্টেজ ব্যবহার করবেন তা নির্ভর করে সার্কিটের প্রকার, উদ্দেশ্য, এবং প্রয়োজনীয়তার উপর। সাধারণত, এসি (Alternating Current) এবং ডিসি (Direct Current) উভয় ভোল্টেজই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
এসি ও ডিসি কারেন্ট কাকে বলে? এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কী? এসি ও ডিসি কারেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

সার্কিটের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ভোল্টেজ নির্বাচন করতে হবে। এখানে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোন ভোল্টেজ ব্যবহার করবেন তা ব্যাখ্যা করা হলো:

1. বাড়ির সাধারণ সরঞ্জাম: এসি ভোল্টেজ (যেমন, ১১০V বা ২২০V) ভালো, কারণ বাড়ির বিদ্যুৎ সরবরাহ সাধারণত এসি হয়।

2. ব্যাটারি চালিত ডিভাইস: ডিসি ভোল্টেজ উপযুক্ত, যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, এবং অন্যান্য পোর্টেবল ডিভাইস।

3. ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাপ্লিকেশন: এসি ভোল্টেজ বেশি ব্যবহার হয়, কারণ বড় মোটর এবং মেশিনগুলো এসি ভোল্টেজে কার্যকরী হয়।

4. সোলার প্যানেল সিস্টেম: ডিসি ভোল্টেজ, কারণ সোলার প্যানেল ডিসি ভোল্টেজ উৎপাদন করে, যা পরে এসি ভোল্টেজে রূপান্তরিত হতে পারে।

কিছু নির্দিষ্ট উদাহরণ:

  • একটি ছোট LED লাইটের জন্য, 3V DC ভোল্টেজ যথেষ্ট হতে পারে।
  • একটি মোবাইল ফোন চার্জ করার জন্য, 5V DC ভোল্টেজ প্রয়োজন।
  • একটি ছোট টেবিল ফ্যানের জন্য, 220V AC ভোল্টেজ প্রয়োজন হতে পারে।
  • একটি রেফ্রিজারেটরের জন্য, 220V AC ভোল্টেজ প্রয়োজন।
ইলেকট্রিক সার্কিট পরিচালনার জন্য সাধারণত নিম্ন ভোল্টেজই ভাল বা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। কারণ নিম্ন ভোল্টেজ নিরাপদ এবং সার্কিটের জন্য কম ক্ষতিকারক।

ভোল্টেজের ধরন নির্ধারণ করার সময়, সার্কিটের প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তা, এবং ব্যবহারের সহজলভ্যতা বিবেচনা করতে হবে। সাধারণত, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং ছোট ব্যাটারি চালিত ডিভাইসের জন্য ডিসি ভোল্টেজ এবং বড় অ্যাপ্লিকেশন ও দীর্ঘ দূরত্বে পরিবহনের জন্য এসি ভোল্টেজ বেশি উপযোগী।
Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url